আজ || বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
শিরোনাম :
  আদালতে ঢুকে সেই ওসির তিন স্যালুট, বিচারক বললেন ‘অর্ডার অর্ডারই       বাংলাদেশ স্কুল বাহরাইনের এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছাত্র-ছাত্রীরা       বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপন       ফেনীতে সাংবাদিক স্বপন মজুমদারের বাসায় গুলি বর্ষণ: বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব বাহরাইনের নিন্দা ও প্রতিবাদ সভা       ফেনীর রামপুরে সাংবাদিকের বাসা বাড়ি লক্ষ্য করে ফিল্মি স্টাইলে গুলি বর্ষণ করেন দুর্বৃত্তরা       জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন বাংলাদেশ দূতাবাস বাহরাইন       সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বাহরাইনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত       ১২ বছরের সফল যাত্রা শেষে ১৩ বছরে পদার্পণ করেছেন ফেনী ইউনিভার্সিটি       গণসংযোগকালে ফেনীতে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর গাড়ি বহরে হামলা, আহত ১০       কুমিল্লা সদর- ৬ আসনে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে ফ্রান্সে সংবাদ সম্মেলন    
 


আদালতে ঢুকে সেই ওসির তিন স্যালুট, বিচারক বললেন ‘অর্ডার অর্ডারই

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

ফেনী প্রতিনিধি:

দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহারের আদেশপ্রাপ্ত ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান।

এবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহারের আদেশপ্রাপ্ত সেই ওসি মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান। বুধবার (১২ আগস্ট) ওই আদালতের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে।

আদালতের বিশ্বস্ত একটি সংশ্লিষ্ট জানায়, বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক এ এন এম মোরশেদ খানের এজলাসে হঠাৎ ঢুকে পড়েন ওসি নোমান। এ সময় তিনবার স্যালুট দিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। বিষয়টি নজরে এলে আদালতের স্টেনোগ্রাফারের কাছে তার পরিচয় জানতে চান বিচারক। পরে পরিচয় পেয়ে ওসিকে উদ্দেশ্য করে বিচারক বলেন, আপনি এখানে কেন এসেছেন। আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। ইতোমধ্যে আপনাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের ‘অর্ডার অর্ডারই’। এরপর এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান ওসি নোমান।

একই সূত্র আরও জানায়, বিচারক এজলাসে ওঠার আগে ওসি বিচারকের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সংশ্লিষ্টরা অনুমতি ছাড়া বিচারকের সঙ্গে দেখা করা যাবে না বলে ওসিকে জানায়। পরে বিচারক এজলাসে ওঠার পর তিনি হঠাৎ সেখানে ঢুকে পড়ে স্যালুটের মাধ্যমে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দাগনভূঞা থানার ওসি বিচারকের এজলাসে প্রবেশ করেছেন বলে শুনেছি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,আদালত থেকে নিচে নামার সময় ওসি নোমান কিছুটা হতাশগ্রস্ত দেখা গেছে। এসময় তিনি অসুস্থতাবোধ করলে কয়েকজন লোক তাকে ধরে নামতে সহযোগিতা করেন।

এর আগে, গত ৯ আগস্ট দেওয়া আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার বিবি মারজাহান (২৪) তার স্বামী রাকিব হাসান হৃদয়সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগ করেন। এ নিয়ে থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন।

সেই অভিযোগকারীকে পরীক্ষা, তার জবানবন্দি এবং উপস্থাপন করা কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই আদেশে আরও বলা হয়, গৃহবধূ মারজাহানের চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শারীরিক আঘাতের কথা উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি, তা বোধগম্য নয় বলে আদালত উল্লেখ করেন।

ওইদিন শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেক গৃহবধূ তানিয়া আক্তারকে (২২) যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে করা একটি মামলাও গ্রহণ না করার বিষয় আদালতের নজরে আনেন। ওই মামলায় গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, পৃথক দুটি ঘটনার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, আইনজীবীদের বক্তব্য ও সংযুক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনায় গুরুতর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ অবস্থায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয়টি তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেয় আদালত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ওসিকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশের পত্র হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Top